দুর্গাপুর,২৮ জুলাইঃ কোক ওভেন থানার অধীন নারায়নপুর এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানি লিমিটেডের (ডব্লিউবি এসইডিসিএল) কাজের জন্য সাব স্টেশন থেকে ১১ হাজার লাইনের নতুন ফিডারের কাজ চলছিল। তার জন্য স্থানীয় একটি মন্দিরের কাছে ৫০৮ মিটারের একটি ১১ কেভি ইউজি কেবল ড্রাম রাখা ছিল। সঙ্গে আরও কিছু দামী বৈদ্যুতিক সরঞ্জমও ছিল। যার সার্বিক মূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। কিন্তু,হটাৎই সেগুলি কে বা কারা চুরি করে পালায়। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত নারায়নপুরের এমএস স্টার পাওয়ার কর্পোরেশন নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে এই চুরির ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় কোক ওভেন থানায়। গত ২১ জুলাই অভিযোগ দায়ের করার পরই নড়েচড়ে ওঠে কোক ওভেন থানার পুলিশ। কোক ওভেন থানার আধিকারিক মহম্মদ মইনুল হকের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয় এবং এই মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাব ইন্সপেক্টর রিন্টু মাহাতোকে। তদন্তে নেমে প্রথমেই নীতিশ কুমার যাদব নামে গাড়ির এক ড্রাইভার গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিঙ্গাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে চুরির ওই দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জম গুলি হাওড়ার লিলুয়া এলাকার মালিপঞ্চঘোড়ায় বিক্রি করা হয়েছে। এরপর নীতিশকে নিয়ে পুলিশ হাওড়ার লিলুয়ার নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সিং নামে আর একজনকে গ্রেফতার করে। প্রতাপকে জেরা করে অনুজ কুমার নামে একজনের খোঁজ পাওয়া মেলে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেরা করতেই চুরি যাওয়া মালপত্রের হদিশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ধৃত তিন জনকেই দুর্গাপুর আদালতে পেশ করা হয়। এদের মধ্যে নীতিশ কুমার যাদব (২৫) এর বাড়ি বিহারের ছাপড়া জেলায়, প্রতাপ সিং (৪২) ও অনুজ কুমার (২৮) দুজনেরই বাড়ি হাওড়ায়। অতি দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ এদের গ্রেফতার করে চুরির সমস্ত মাল উদ্ধার করায় পুলিশের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এমএস স্টার পাওয়ার কর্পোরেশন সংস্থার মালিক মহঃ তৌফিক আলি। অন্যদিকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ভোল্টাজ সংস্থার সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শঙ্কর দাস এই তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইও রিন্টু মাহাতোর কাজের দক্ষতার প্রশংসা করে বলেছেন,পুলিশ যে কাজ করে এই ঘটনাই তার প্রমান।
দুর্গাপুর থেকে চুরি যাওয়া লক্ষাধিক টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জম হাওড়া থেকে উদ্ধার,তিন দুষ্কৃতী গ্রেফতার
RELATED ARTICLES