সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ শনিবার ছিল শ্রাবনী পূর্ণিমা ও রাখী বন্ধন উৎসব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ শাসক লর্ড কার্জনের প্রস্তাবিত বঙ্গভঙ্গ আইন রদ করার প্রতিবাদে আন্দোলন সংঘটিত করেন। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর রাখী বন্ধন উৎসবের ডাক দেন কবি। অবশ্য রাখী বন্ধন আমাদের দেশের অতি প্রাচীন সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনের এক উৎসব। এই বিশেষ দিনটি সারা রাজ্যের সঙ্গে দুর্গাপুরেও বিভিন্ন জায়গায় পালন করা হয়। সিটি সেন্টারের নন রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রভাতী যোগ ও প্রাণায়াম ক্লাবের বরিষ্ঠ সদস্যারা রাখী বন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানে যোগ ও প্রাণায়াম এর প্রশিক্ষক প্রণয় রায়,দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার এ জি এম,ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ তপন বাদ্যকর সহ অন্যান্য ক্লাব সদস্যদের মহিলারা রাখী পরান। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রধান হাসপাতালের এজিএম ফিজিওথেরাপি ডাক্তার রাখী বন্ধন কেন তার তাৎপর্য সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। প্রাণায়াম ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণয় রায় বলেন,রাখী উৎসব ভাই-বোনেদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সুসম্পর্কের উৎসব। অনুষ্ঠান শেষে একটি ফিজিওথেরাপি শিবিরের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও বেনাচিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর দুর্গাপুর শাখার মহিলা সদস্যারা বেনাচিতির পাঁচমাথার মোড়ে পথ চলতি মানুষদের রাখী পরান। সংস্থার সম্পাদক গৌতম ঘোষ জানান, প্রতি বছরই তাদের বিশেষভাবে সক্ষম ভাই বোনেরা এই রাখী উৎসবে বেনাচিতির পথ চলতি মানুষদের রাখী পরিয়ে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করেন। সমাজসেবী সুদীপ রায় বলেন,সমাজের অবক্ষয় থেকে সবাইকে বাঁচাতে রাখী বন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম। তপন বাদ্যকর বলেন,সামাজিক সহায়তা প্রদান করে প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়।

এদিন পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন পল্লী এলাকায় পথ চলতি মানুষদের রাখী পড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য রাখী তেওয়ারী সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতারা। দুর্গাপুরের কোক ওভেন থানার তরফেও পথ চলতি মানুষদের হাতে রাখী পড়িয়ে রাখী বন্ধনের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অন্যদিকে কাঁকসার মলানদিঘিতে দেখা যায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন গাছের ডালে লাগানো বিভিন্ন হোর্ডিং,পোস্টার ও ব্যানার গুলি খুলে ফেলে রাখী পড়িয়ে গাছ বাঁচানোর শপথ নেন। এছাড়াও দুর্গাপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ক্লাব ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও রাখী উৎসব পালন করা হয়।
