সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ কোয়ার্টার লাইসেন্সিং সহ ইস্পাতনগরীতে নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশার প্রতিবাদ জানিয়ে আইএনটিইউসির বিক্ষোভ সভা হল ডিএসপির নগর প্রশাসনিক ভবনে। ইস্পাতনগরীতে ডিএসপি কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কোয়ার্টার লাইসেন্সিং নিয়ে চলছে অচলাবস্থা। পাশাপাশি ইস্পাতনগরীতে রয়েছে নাগরিক পরিষেবার সমস্যাও। এই সব বিষয় নিয়ে সোচ্চার হল ডিএসপির আইএনটিইউসি অনুমোদিত হিন্দুস্থান স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। শুক্রবার ইউনিয়নের সদস্যরা রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দান থেকে ডিএসপির মুখ্য নগর প্রশাসনিক কার্যালয় পর্যন্ত একটি মিছিল করেন। নগর প্রশাসনিক কার্যালয়ে ঢোকার সময় মিছিলকে আটকে দেয় সিআইএসএফ জওয়ানরা। ইনটাক কর্মীরা তাদের আইডেনটিটি কার্ড দেখানো সত্বেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত জোর করেই প্রশাসনিক কার্যালয়ে ঢুকে যান আন্দোলনকারীরা। এদিন তারা মোট ১২ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি তুলে দেন ডিএসপির সিজিএম (টাউন সার্ভিস) অরূপ দত্ত চৌধুরীর হাতে। দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল কোয়ার্টার লাইসেন্সিং। বিগত সময়ে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ বারবার এবিষয়ে একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। ফলে অবসারপ্রাপ্ত কর্মীদের উপর ক্রমশ মানসিক চাপ বেড়ে চলেছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিন্দুস্থান স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। অন্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে টাউনশিপের বেহাল রাস্তা মেরামত,পানীয় জলের সমস্যা,উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক (আহ্বায়ক) রজত দিক্ষিত বলেন, “টাউনশিপের পরিষেবা বেহাল হয়ে পড়েছে। টাউনশিপের রাস্তাঘাটের অবস্থা তথৈবচ। মাঝেমধ্যেই পথ দূর্ঘটনা ঘটছে। এসব নিয়ে কোনো হেলদোল নেই প্রশাসনিক কর্তাদের। জল,বিদ্যুতের সমস্যার সঙ্গে রয়েছে ইস্পাতনগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিপদজনক পার্থেনিয়ামের বাড়বাড়ন্ত। দীর্ঘদিন কোনো সাফাই অভিযান করা হচ্ছে না। আমরা কোয়ার্টার লাইসেন্সিং নিয়ে বহুদিন থেকেই লড়াই,আন্দোলন করলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন। প্রশাসনের ঘুম না ভাঙলে আমরা আরো বৃহত্তর আন্দোলন করবো”। তিনি আরও বলেন, এদিন আমাদের সভা যাতে না হয় তার জন্য ম্যানেজমেন্ট চক্রান্ত করেই সিআইএসএফ কে লেলিয়ে দিয়েছিল। যদিও আমরা সেই বাধা পেরিয়ে আমাদের কর্মসূচী করেছি। এদিনের বিক্ষোভসভায় হিন্দুস্থান স্টিল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অন্যান্য নেতা ও কর্মীদের মধ্যে ছিলেন রবীন গাঙ্গুলী,শুভঙ্কর বোস,কৌশিক ব্যানার্জী,রাণা সরকার,উৎপল দে,বাসুদেব মুখার্জী,সঞ্জীব ঘোষ প্রমূখ।




