সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ একদিকে চলছে এসআইআরের শুনানি। সেখানেও অভিযোগ রয়েছে বহু মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এনিয়েও বিভিন্ন জায়গায় চলছে ক্ষোভ বিক্ষোভ। এরমধ্যেই দেখা গেল এসআইআরের ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে একাধিক জেলা। এবার তেমনই উত্তেজনার ঘটনা ঘটতে দেখা গেল দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক কার্যালয়ের সামনে। সেখানে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা অবৈধ ভোটারদের নাম বাতিল করার আবেদন নিয়ে ফর্ম ৭ মহকুমা শাসকের কাছে জমা দিতে আসেন। কিন্তু, সেখানে আগেই হাজির হয়ে যান তৃণমূল নেতৃত্ব ও দলের কর্মীরা। তাদের অভিযোগ,বিজেপি ফর্ম ৭ কাজে লাগিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম বাতিল করার চক্রান্ত করছে। তাই তারা বাধা দিয়েছেন। বিজেপির কর্মীরা জোর করে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এরপরই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে গেলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবেই ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিল। কিন্তু তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মীদের মারধর করে এবং লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। তাতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে”। যদিও তৃণমূলের জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকার বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, “বিজেপি বৈধ ভোটারদের নাম নিয়ে এসেছিল। সেই জন্যই আমরা তা দেখতে চেয়েছিলাম। আমাদের কর্মীরা কাউকে মারধর করেনি”। ঘটনাস্থলে পুলিশের বড় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রেখেছিল।

এর কিছুক্ষন পরেই বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্ণণ ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে তাদের কর্মীদের উপর তৃণমূলের হামলার প্রতিবাদে ডিভিসি মোড়ের কাছে জাতীয় সড়কে অবরোধ করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। কিছুক্ষন পরেই বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে গিয়ে লক্ষ্ণণ ঘোড়ুইকে জোর করে রাস্তা অবরোধ থেকে তুলে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলে। লক্ষ্ণণ ঘোড়ুই অভিযোগ করেছেন,‘আমরা ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৭ নং ফর্ম জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের সহযোগিতায় আমাদের বাধা দিয়েছে তৃণমূল। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে’।



