সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ অনুষ্ঠানের নাম ‘কবিতার জন্য কিছুক্ষণ’। আয়োজক দুর্গাপুরের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংস্থা ক্যামেলিয়া। শনিবার অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় দুর্গাপুর চিলড্রেনস আকাদেমি অফ কালচার এর প্রেক্ষাগৃহে। সাধারনত কবিতা পাঠের আসর যেরকম হয়,এই অনুষ্ঠানটি ছিল তার ব্যতিক্রম। এখানে দেখা গেল কবি ও বাচিক শিল্পীদের এক অন্য মাত্রার যুগলবন্দি। একপাশে বসে ছিলেন কবি অন্যপাশে বাচিক শিল্পী সেই কবির কবিতা পাঠ করছেন। এরপর কবি তার পঠিত কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। কবিরা কবিতা লেখেন হৃদয় নিংড়ে পরম মমতায়। নিজের মনেই পড়েন। কিন্তু শান্তি পান না। বুঝতে পারেন না তাদের কবিতা কতটা সৃষ্টিশীল বা কতটা শ্রুতিমধুর হয়েছে। কিন্তু ‘কবিতার জন্য কিছুক্ষণ’ অনুষ্ঠানে যখন একজন বাচিক শিল্পী কবির কবিতা তার সুললিত কন্ঠে পরিবেশন করছেন এবং সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনছেন তখন কবি অনুভব করেন তার কবিতা যেন প্রাণ পাচ্ছে। বুঝতে পারছেন জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি শব্দই কেমন কবিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যামেলিয়ার এই অভিনব বাচিক চিল্পী ও কবিদের মেলবন্ধনে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান এবার দশ বছরে পড়ল। প্রথমে বেদ গান,এরপর কীর্তনাঙ্গ রাগে যদি ঝড়ের মেঘের মত যাই চঞ্চল অন্তর এই রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন কাকলি চৌধুরী। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করলেন সমবেত কবিরা। এরপর ক্যামেলিয়ার কর্ণধার দেবদাস সেন তার গৌরচন্দ্রিকায় বললেন,এদিন তার কোন কথা নয়। আজ কথা বলবে কবিতা। চিলড্রেনস আকাদেমির মঞ্চে কবিতার সাগরে। আমরা সবাই অবগাহন করব।

কবি পূর্ণ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় বললেন,কবিতা বার বার বাঁক নিয়েছে পথ পরিবর্তন করেছে। কবিতা ভাঙতে ভাঙতে একদিন নতুন পথ খুঁজে পায়। অতৃপ্তি থেকে কবিতা সৃষ্টি। কবিতা জন্ম মৃত্যু,জীবনবোধ,হতাশা সব কিছুতেই আছে। অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী বলেন, আবৃত্তি করলেই আবৃত্তিকার হওয়া যায় না। তার জন্য প্রচন্ড অভ্যাস ও কবিতাটাকে বুঝে কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। এরপর কাকলী সেন আর কাকলী রায় অত্যন্ত গুণী দুই অনুষ্ঠান সঞ্চালিকা তাদের সুমধুর বাচনভঙ্গিতে একে একে বাচিক শিল্পী ও কবিদের মঞ্চে আমণ্ত্রণ জানান। বাচিক শিল্পী প্রসূন চট্টোপাধ্যায় তার ভরাট কন্ঠের কারুকার্যে কবি কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা পাঠ করে কবিতার জন্য কিছুক্ষণ অনুষ্ঠানের সুর বেঁধে দেয়। এরপর একজন বাচিক শিল্পী আর একজন কবি। বাচিক শিল্পী পড়ছেন কবির কবিতা আর কবি ভাবছেন তার সৃষ্টি স্বার্থক হল। আর দর্শকরাও মুগ্ধ হয়ে বাচিক শিল্পীর কন্ঠে সেই কবির কবিতা পড়ছেন। রণয় রায়ের কবিতা পড়ল বাচিক শিল্পী মনিকা চক্রবর্তী ওর অসাধারণ বাচনভঙ্গীতে। রূপা মুখার্জী পড়লেন নিখিল পান্ডের অসাধারণ কবিতা। নয়ন রায়ের কবিতা পাঠ করলেন ইতি সিনহা পাল। মালতী মন্ডলের কবিতা পড়লেন দীপা ঘোষাল রায়। স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়ের কবিতা পড়লেন একজন বাচিক শিল্পী। আসরাফুল মন্ডলের কবিতা পড়লেন সুভদ্রা চক্রবর্তী। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা পড়লেন প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী মিতা চৌধুরী। সৌরভ দত্তর কবিতা পড়লেন সোমা সরকার। বাচিক শিল্পী ও কবিদের যুগলবন্দীর মধ্যেই মাঝে মাঝে কবিরাও কবিতা পাঠ করছিলেন। মণিশঙ্কর, সোনালী বড়ুয়া,রঘুনাথ সিনহা, দীপান্বিতা সেনগুপ্ত,রূপালী মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য কবিরা। কখনও বাচিক শিল্পী পড়ছেন তার সামনে উপস্থিত কোন কবিতা আবার মাঝে মাঝে কবিরাও সকন্ঠে পাঠ করছেন তাদের কবিতা। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সবাই শুনছেন। আনন্দ,দুঃখ,কষ্ট যন্ত্রণা,প্রতিবাদ সব কিছুর কবিতাই উচ্চারিত হলে মঞ্চ জুড়ে। শীতের কাঁপুনি উপেক্ষা করে উপস্থিত সবাই এক ভালা লাগা কবিতা সন্ধ্যায় কবিতার ছন্দ,কথা ও উচ্চারনে নিজেদের শরীর ও মনকে ভালেলাগার উষ্ণতায় ভরিয়ে তুললো।



