সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ ওরা বাংলা টার্গেট করেছে। আমি দিল্লি টার্গেট করছি। বিজেপিকে সরাতেই হবে। এরা গোটা দেশটাকে বিক্রি করেছে। শনিবার দুপুরে রানিগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী কালোবরণ মন্ডলের সমর্থনে অন্ডালের খান্দরা ফুটবল ময়দানের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একেবারে রনংদেহী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এসআইআর ও ভোটার তালিকা নিয়ে আবারও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় মমতা বলেন,ধসপ্রবণ রানিগঞ্জে ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি করেছি। আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। আমি মা,ভাই,বোনেদের কাছে অনুরোধ করছি,মনে রাখবেন মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি দামি। একটা নয়,দু’টো করে ফ্ল্যাট রাজ্য সরকার আপনাদেরকে দেবে। যদি আপনার শিফট করতে চান,সেই শিফটিংয়ের খরচও আমরা দেব। এই ক্ষেত্রে মোট ১০ লক্ষ টাকা করে খরচ ধরা হয়েছে। শুক্রবার রঘুনাথগঞ্জে রামনবমী মিছিল নিয়ে গন্ডগোলের জন্য তিনি সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন এবং একইসঙ্গে দায়ী করেন নির্বাচন কমিশনকেও। মমতার অভিযোগ,অফিসারদের সরিয়ে দাঙ্গা করিয়েছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। আক্রমণের সুর চড়িয়ে তার হুঁশিয়ারি,কাউকে ছাড়া হবে না। সভামঞ্চে মমতা এক এক করে প্রার্থীদের ডেকে পরিচয় করাচ্ছিলেন। জামুড়িয়ার প্রার্থী হরেরাম সিং কে পরিচয় করানোর সময় তাঁর ছেলের কার্যকলাপ নিয়ে তাকে সতর্ক করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরেরামের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “তোমার ছেলে যেন লাল লাইটের গাড়ি ব্যবহার না করে। আমি এখন থেকে সতর্ক করলাম”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশে কার্যত বিপাকে পড়ে গেছেন হরেরাম সিং। জামুড়িয়া অঞ্চলের বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরেরাম সিংয়ের ছেলে প্রেমপাল নিজের গাড়িতে কখনও লাল লাইট আবার কখনও নীল লাইট লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আবার কখনও জনবহুল এলাকায় প্রচন্ড শব্দে হুটার বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তার সাথে বন্দুকধারী নিরাপত্তা কর্মীও থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গোবলয়ের বহুবলীদের মতো চালচলন প্রেমপালের। তাঁর এসব কীর্তিকলাপের ছবি একাধিকবার সমাজ মাধ্যমে উঠে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রেমপালের সেই কীর্তিকলাপ জানতে পেরেই এই সভা মঞ্চে হরেরামকে সতর্ক করে দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ,এনিয়ে আমরা আগেই অভিযোগ তুলেছিলাম। সেটাই মুখ্যমন্ত্রীর কথায় প্রমানিত হল।




