টিভি৭ নিউজ ডেস্ক,১২ এপ্রিলঃ অবশেষে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে আরও একটি যুগের অবসান ঘটে গেল। ৯২ বছরে থেমে গেল কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের হৃৎস্পন্দন। শোকের ছায়া সঙ্গীত জগতে। শনিবার বুকে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। তাঁকে রাখা হয়েছিল এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিটে। সেই সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন,তাঁর অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। এর পরেই তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল আইসিউতে। কিন্তু,শেষ রক্ষা হল না। আজ দুপুরে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তী এই সঙ্গীতশিল্পী। শিল্পীর প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুম্বই সহ গোটা দেশেই শোকের ছায়া নেমে আসে সঙ্গীত জগতে। হিন্দি মারাঠি এবং বিভিন্ন ভাষার পাশাপাশি প্রচুর বাংলা গানও গেয়েছেন আশা ভোঁসলে,যা আজও বাংলা সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। ‘পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গানগুলো সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’ এবং ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো গানে তাঁর ধ্রুপদী সুরের গভীরতা ও দক্ষতা প্রমাণ করে যে, কেন তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে। ১৯৮১ সালে তিনি উমরাও জান সিনেমায় গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইজাজত সিনেমার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর ২০০০ সালে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পান। ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথমবার সিনেমায় গান গেয়েছিলেন তিনি। মারাঠি ছবি ‘মাজা বাল’ সিনেমায় গেয়েছিলেন ‘চালা চালা নাভ বালা’। সেই থেকে শুরু। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে
RELATED ARTICLES



