আসানসোল,১২ এপ্রিলঃ এসআইআর নিয়ে আবারও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমন শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “আমি লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম যুক্ত করেছি। এখনও ৯০ লক্ষ নাম তুলতে হবে। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম ভোটারকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে”। তিনি সাফ জানিয়ে দেন,বাংলায় কোনোভাবেই এনআরসি হতে দেবো না। ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,এদের ভোটেই তো জিতেছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এখন যদি এতো নাম বাদ যায় সেই অসঙ্গতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ। এদিন আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক এবং তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে আসানসোলের কল্যাণপুর হাউজিং লাগোয়া ওয়েবেল আইটি পার্কের বিপরীতে এডিডিএ গ্রাউন্ডে নির্বাচনী জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই প্রার্থী ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী,জামুড়িয়ার হরেরাম সিং এবং কুলটির প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক। সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে বিজেপির বিরুদ্ধে আগাগোড়া তীব্র আক্রমন করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, মোদীজি সোনার বাংলা করার কথা বলেন। অথচ বাংলার মানুষের নাম কাটেন। বিজেপি বাংলায় কাপুরুষতা করছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননা ও বিহারি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপির সমালোচনা করেন। এদিনের সভায় আসানসোল-রানীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব প্রসঙ্গে আসানসোল ও রানীগঞ্জকে আন্তর্জাতিক মানের ক্লাস্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,আসানসোলে গ্যাস সেলের কারখানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি হবে। যেখানে স্থানীয় হাজার হাজার যুবক-যুবতী চাকরি পাবেন। তিনি বলেন,ধস কবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় শিফট হলে তাঁরা আর্থিক সাহায্যও পাবেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার,স্বাস্থ্যসাথী,খাদ্যসাথী এবং যুবশ্রী প্রকল্পের সুবিধা মানুষ সারা জীবন পাবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। রেল ও শিল্প এবং শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কলকারখানা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,রেল ইঞ্জিন কারখানা দুর্বল করা হয়েছে। কেবলস কারখানা বন্ধ হয়েছে। কয়লা চুরি প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির উপর দায় চাপিয়ে বলেন,কারণ নিরাপত্তার দায়িত্বে আপনাদের (কেন্দ্রের) সিআইএসএফ ছিল। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূল সরকারই চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার বরাত বাড়িয়েছে এবং নতুন পুলিশ কমিশনারেট গঠন করেছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “নির্বাচন আসলেই ভয় দেখানো হচ্ছে। সাহস থাকলে আমার সঙ্গে সামনা-সামনি লড়াই করুন। এবার গণতন্ত্রেই বদলা হবে এবং বাংলা জিতবে বলেও তিনি দাবি করেন।
আসানসোলের সভায় এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে আক্রমন মমতার
RELATED ARTICLES



