প্রণয় রায়,দুর্গাপুরঃ আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৮টিরও বেশী দেশে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। সারা রাজ্যের সঙ্গে দুর্গাপুরেও বিভিন্ন এলাকায় দিনটি উদযাপন করা হয়। ইস্পাতনগরীর এডিসন রোড মেজর পার্কে ভাষা শহীদ স্মারক বেদীতে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। ভাষা শহীদ স্মারক ময়দানে দেখা গেল সাত সকালে গোটা মাঠ জুড়ে অসংখ্য ভাষাপ্রেমী মানুষের ভীড়। শহীদ বেদিতে সবাই পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করছেন।লহরী সঙ্গীত দল সমবেত কন্ঠে গাইলো আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ও শহীদ আলতাপ মাহমুদ এর সুরারোপিত একুশে ফেব্রুয়ারির প্রাণের সঙ্গীত- আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি। মনটা উদ্বেলিত হয়ে উঠল সেই ভাষা শহীদদের আত্মদানের কথা স্মরণ করে। অতুল প্রসাদ সেনের মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা গানটা শুনে মনে পড়ছিল ১৯৫৫ সালে শিলচরের সেই দশটি ভাই চম্পা আর এক বোন পারুলের শুধুমাত্র মাতৃভাষার দাবীতে আত্মদানের কথা। ভাষা শহীদ স্মারক ময়দানে কত মানুষের ভীড়। কত কথা, কত গান, কত কবিতা এযেন মিলে সুর মিলে হমারা। রবীন্দ্র সাহিত্য বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুচিন্ত্য চট্টরাজ, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব দীপক দেব, রণজিত গুহ, স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়, রাজীব ঘাঁটি, সোনালী বড়ুয়া সহ অন্যান্যরা ভাষা শহীদদের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করলেন। দীপক দেব বললেন,আমাদের মাতৃভাষাকে সযত্নে লালন পালন করে হিংলিশ বাংলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তিনি বরাক ভাষা আন্দোলনের ভাষা শহীদ কমলা ভট্টাচার্যদের কথা স্মরণ করে বলেন,মাতৃভাষা নিয়ে ওদের আত্মত্যাগের কথা ভুললে চলবে না। সুচিন্ত্য চট্টরাজ মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বললেন, বাংলা ভাষাকে এক বিশ্ব নাগরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবার।আমাদের মাতৃভাষাকে সযত্নে লালন পালন করে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আগামী প্রজম্মের জন্য।দেশাত্মবোধক সঙ্গীত,সমবেত আবৃত্তি সব কিছু মিলিয়ে এক সুন্দর অনুষ্ঠানের সাক্ষী রইলাম। মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা। এ ভাষাতেই যেন আমরা নিরন্তর অবগাহন করতে পারি তবেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সফল হবে। যে ভাষাকে ভালবেসে ১৯৫২ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকায় রফিক সালাম, বরকত,আবদুল জব্বাররা জীবন দিয়েছিল আর যাদের আত্মদানে মাতৃভাষা একদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেল এ দিনটা এলে আমার নিজের প্রাণের ভাষার এত বড় স্বীকৃতির জন্য গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। ঠিক তেমনি এখনকার নবীন প্রজম্মকে দেখে সদ্য প্রয়াত কবি ভবানী প্রসাদ মজুমদারের সেই বিখ্যাত কবিতাটা মনে পড়ে যায়- জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা। ইংলিশ ওর গুলে খাওয়া,ওটাই ফাস্ট ল্যাঙ্গুয়েজ, হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।কি লাভ বলুন বাংলা পড়ে। এ যেন এখনকার অনেক মা বাবার গর্বিত স্বীকারোক্তি।বড় কষ্ট হয়।
দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
RELATED ARTICLES



