আসানসোল,৩০ অক্টোবরঃ দুর্গাপুজো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা এবং বিসর্জনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজির তৈরি করেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। পুজোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে জেলার ১২টি পুজো কমিটিকে প্রদান করা হল ‘দেবী দুর্গা সম্মান-২০২৬’। আসানসোলে জেলা শাসক অফিসে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ী পুজো কমিটিগুলির হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। পুরষ্কার হিসেবে স্মারকের পাশাপাশি ছিলো টাকার চেক। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার,পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল,অরিজিৎ রায় সহ জেলার পাঁচ বিধায়ক, জেলা শাসক এস পোন্নাবলম সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। মোট চারটি বিভাগে জেলার ১২টি পুজো কমিটিকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। ‘সেরা পুজো’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠ সর্বজনীন, আসানসোলের রাধানগর রোড অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং দুর্গাপুরের মার্কণী দক্ষিণপল্লি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। ‘সেরা প্রতিমা’ বিভাগে সম্মানিত হয়েছে দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ পুজো কমিটি,দুর্গাপুরের ফুলঝোড় সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের গান্ধীনগর দুর্গাপুজো কমিটি। অন্যদিকে,‘সেরা মণ্ডপ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে দুর্গাপুরের অগ্রণী সংস্কৃতি পরিষদ,দুর্গাপুরের শংকরপুর সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের রবীন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতি। এর পাশাপাশি ‘সেরা সমাজ সচেতনতা’ বিভাগে সম্মানিত হয়েছে আসানসোলের রামবাঁধ সার্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটি, ধেমোমেন দুর্গাপুজো কমিটি এবং খোট্টাডিহি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এদিন এই প্রসঙ্গে দুই মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার ও অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়। এটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। সারা বছর মানুষ এই বিশেষ সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। তাই পুজোর প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান যথাযথ বিধি মেনে সম্পন্ন করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা আরো বলেন,এ বছর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পুজোর আয়োজন এবং বিসর্জন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন নজির তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে মায়ের বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রীরা বলেন, এই সাফল্যের পেছনে পুলিশ প্রশাসন,জেলা শাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুজোর প্রস্তুতি থেকে বিসর্জন পর্যন্ত যেভাবে তাঁরা নিরলসভাবে সহযোগিতা করেছেন,তা প্রশংসনীয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও পুজো কমিটিগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা। তাদের কথায়,বাড়ি থেকে দূরে থেকেও প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীরা যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন,তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁদের যেন কখনও মনে না হয় যে তাঁরা নিজেদের পরিবার থেকে দূরে রয়েছেন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই আগামী দিনেও এই সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে পুজো কমিটিগুলির অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর সফল আয়োজনে প্রশাসন,পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরা হয়।
পশ্চিম বর্ধমানের সেরা ১২টি পুজো কমিটিকে ‘দেবী দুর্গা সম্মান’
RELATED ARTICLES



