আসানসোল,৩ জুলাইঃ রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র দ্বিতীয় দফার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় সোয়া কোটি মহিলা এই দফায় প্রথমবারের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতে চলেছেন। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে ক্ষোভের ছবি। পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকায় দিকে দিকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এমনই এক চরম ক্ষোভের আবহ তৈরি হয় সালানপুরের বিডিও অফিসে। শতাধিক বঞ্চিত মহিলা অফিসের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভরত মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকা মেনে তারা নির্দিষ্ট ফর্ম অফলাইনে পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, ১লা জুলাইয়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিস সর্বত্রই এখন টাকার দাবিতে ঘুরছেন মহিলারা। কিন্তু প্রশাসনের একাংশের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজেই ময়দানে নামেন সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস। তিনি বিক্ষোভরত মহিলাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং গোটা প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।জানা গেছে, সালানপুর ব্লকে এপর্যন্ত ১২,০০০-এর বেশি মহিলা এই যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। অথচ এই ব্লকেই আগে প্রায় ৩০,০০০ মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ব্লক থেকে প্রায় ২০,০০০ আবেদন জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই ব্লকের পঞ্চায়েত গুলিতে একটি তালিকা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কারা এই যোজনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, যাদের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি, তারা চাইলে পুনরায় অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। তবে যদি আগের অফলাইন আবেদনের ভিত্তিতে কারও নাম ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত হয়ে থাকে, তবে অনলাইন পোর্টালটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন আবেদন গ্রহণ করবে না। ফলে আবেদনকারী নিজেই বুঝতে পারবেন তার আবেদনের স্থিতি।এছাড়াও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে যে কোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসার জন্য মহিলারা সরাসরি ৮২৮২০৮২৮২০ নম্বরে ফোন করতে পারেন।প্রার্থীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দিয়ে সরাসরি অভিযোগ সেলে নিজেদের বক্তব্য জানানো যাবে। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে,আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের আবেদনের সময়সীমা রয়েছে। সরকারি স্তরে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে সমস্ত আবেদনপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনি করে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান, লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া সমস্ত মহিলাই হয়তো অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। কারণ, রাজ্য সরকার এবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক ক্ষমতাহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলির হাতেই নগদ অর্থ তুলে দিতে চাইছে। ফলে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা স্বচ্ছল পরিবারের মহিলাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসনের এই আশ্বাসে মহিলাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয় কিনা এবং আগামী দিনগুলিতে বাকি যোগ্য প্রার্থীরা কত দ্রুত এই যোজনার সুবিধা পান।
অন্নপূর্ণার টাকা ঢোকেনি,বিভিন্ন এলাকায় মহিলাদের বিক্ষোভ
RELATED ARTICLES



