সংবাদদাতা,জামুড়িয়াঃ দেখা যাচ্ছে সরকার বদল হতেই বিভিন্ন এলাকায় সরকারী জমি ও কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প সংস্থার জমি থেকে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার অভিযান চলছে। ফলে বহু পরিবার বাস্তুছাড়া হয়ে পড়ছেন। এদিকে,যাদের জমিতে আজ ইসিএলের একের পর এক প্রকল্প গড়ে উঠেছে সেই সব জমিদাতাদের একটা অংশ আজও প্রতিশ্রুতি মতো চাকরি পায়নি বলে অভিযোগ। জমি দেওয়ার ৫-১০ বছর পার হয়ে গেলেও অনেকেই চাকরি পায়নি। এরকমই ৪২ জন জমিদাতা ইসিএলের শোনবাজারি প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই সেই জমিতে কয়লা উৎপাদনও পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হবে। এনিয়ে একাধিক আন্দোলন হলেও আজও জমিদাতাদের কাছে সেই চাকরি অধরা। সরকার বদল হতেই জমিদাতারা আবার তাদের প্রাপ্য চাকরির দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড তথা ইসিএল-এর সোনপুর বাজারি এরিয়া অফিসের প্রধান ফটকের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্না ও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন প্রায় ৪২ জন জমিদাতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ,প্রায় পাঁচ বছর আগে ইসিএল তাঁদের জমি অধিগ্রহণ করে। জমি হস্তান্তরের সময় চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ইতিমধ্যে অধিগৃহীত জমিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়ে গেলেও চাকরির দাবিতে তাঁদের বারবার অফিসের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি,একাধিকবার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, বারবার নতুন কাগজপত্র চেয়ে শুধু হয়রানিই করা হচ্ছে। যতদিন না হাতে চাকরির নিয়োগপত্র পাচ্ছি,ততদিন এই আন্দোলন চলবে বলেও তারা জানান। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগেই একই অভিযোগ তুলে মাধাইপুর খনিতে অনশন শুরু করেছিল বেশ কিছু পরিবার। তাদের দাবি,ওই ব্লকের মাধাইপুরে খোলা মুখ খনির জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ হয়েছিল। সেই সময়ে বলা হয়েছিল জমির বদলে পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। ইসিএল সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জমি দেওয়ার পরে দশ বছর কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত অনেকে চাকরি পাননি বলে অভিযোগ।
জমি দিয়েও মেলেনি চাকরি,ক্ষোভ ইসিএলের বিরুদ্ধে
RELATED ARTICLES



