সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ এটিএমের ভিতরে লাগানো ছিল ‘এটিএম মেনটেন্যান্স ম্যানেজার’ এর একটি মোবাইল নম্বর। কার্ড আটকে যাওয়ার পর সেই নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেন এক যুবক। ফোনের ওপার থেকে দেওয়া নির্দেশ মেনে চলতেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় উধাও ৬৪ হাজার টাকা। পরে দেখা যায়,ওই নম্বর লেখা কার্ডটিও আর সেখানে নেই। দুর্গাপুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএমে এই অভিনব প্রতারণার শিকার হন দুর্গাপুরের বিধান নগরের চ্যাটার্ড অ্যাকাউটেন্ট কর্মী অভিজিৎ সরকার। অভিজিৎ সরকারের অভিযোগ,গত ৫ আগষ্ট ওই এটিএমে মেয়ের এটিএম নিয়ে টাকা তুলতে যান। স্বাভাবিক নিয়মে কার্ড ঢুকিয়ে পিন নম্বর দেওয়ার পর হঠাৎই তাঁর এটিএম কার্ড মেশিনে আটকে যায়। স্ক্রিনে কখনও টেম্পোরারি আউট অফ অর্ডার আবার কখনও ইন্সার্ট প্রপারলি লেখা দেখাচ্ছিল। কার্ড বের না হওয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সেই সময় এটিএমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে ভিতরে লাগানো এটিএম মেনটেন্যান্স ম্যানেজার-এর নম্বরে ফোন করতে বলেন। ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে দু’বার এন্টার এবং দু’বার ক্যানসেল বোতাম চাপতে বলা হয়। কিন্তু তাতেও কার্ড বের হয়নি। ফোন কানে নিয়ে এটিএমের বাইরে বেরিয়ে আসতেই তাঁর মোবাইলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা শুরু হওয়ার বার্তা আসে। দ্রুত ভিতরে ফিরে এসে তিনি দেখেন,সাহায্যকারী যুবক উধাও। শুধু তাই নয়,মেনটেন্যান্স ম্যানেজারের নম্বর লেখা কার্ডটিও আর সেখানে ছিল না। অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় মোট ৬৪ হাজার টাকা ডেবিট হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা ও ৫ হাজার টাকা ‘ক্যাশ উইথড্রয়াল’ হিসেবে এবং ৪৯ হাজার টাকা বিহারের একটি বস্ত্র বিপণিতে লেনদেনের মাধ্যমে কেটে নেওয়া হয়। ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফরিদপুর ফাঁড়িতেও অভিযোগ করেন এবং পুলিশের পরামর্শে অনলাইন সাইবার পোর্টালেও অভিযোগ জানান। যে এটিএমে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছিল না।
দুর্গাপুরে ফোনের ফাঁদে পড়ে এক গ্রাহকের ৬৪ হাজার টাকা উধাও
RELATED ARTICLES



