সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ ইন্দাস কান্ডে ৬ দফা দাবিপূরণ না হলে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এবার মৃতের ছেলে আব্দুল হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে সেকথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদল। গোটা ঘটনার তদন্তের গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ককরোচ নেতৃত্ব। বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামে গত ১৩ অগাষ্ট রাতে একদল দুস্কৃতি হামলা চালায় ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী আব্দুল হাফিজের বাড়িতে। হাফিজকে মারধোর করার পাশাপাশি ব্যপক মারধোর করা হয় তাঁর বাবা মহম্মদ মাফিককে। গত ১৫ অগাষ্ট রাতে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মহম্মদ মাফিকের। ১৬ অগাষ্ট মৃতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ৫ জনের নাম সহ অজানা বেশ কিছু জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরের দিনই ককরোচ জনতা পার্টির তরফে ৬ দফা দাবি তোলা হয়। ঘটনার প্রকৃত তদন্ত,সকল অপরাধীদের গ্রেফতার,হাফিজের বাড়ির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ককরোচ পার্টি প্রয়াত মহম্মদ মাফিকের নামে একটি স্কুল তৈরীর দাবি তোলে। ১০ দিনের মধ্যে দাবিপূরণ না হলে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেয় সিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত ৫ জন সহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাফিজের বাড়িতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু মহম্মদ মাফিকের নামে স্কুল গড়ার দাবি পূরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কী পদক্ষেপ হয়েছে তা জানতে শুক্রবার মৃতের ছেলে আব্দুল হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে জেলা শাসকের দফতরে যান ককরোচ জনতা পার্টি নেতৃত্ব। বেশ কিছুক্ষণ জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরে ককরোচ নেতৃত্ব জানান, দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড়। তদন্তের গতি নিয়েও তাঁরা যে মোটেও সন্তুষ্ট নন তা পরিস্কার করে দিয়েছেন ককরোচ নেতৃত্ব। একই দাবিতে অনড় অবস্থানে মৃতের ছেলে আব্দুল হাফিজও। অন্যদিকে,বাঁকুড়ার ইন্দাস কান্ডে এফ আই আর এ নাম থাকা আরো ২ জনকে গ্রেফতার করেছে ইন্দাস থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এই ২ জনকে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করেছে ইন্দাস থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম প্রশান্ত মাঝি ও অবনি মাঝি। অর্থাৎ এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট ১১ জন গ্রেফতার হল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইন্দাস কান্ডে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায়।
আব্দুল হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করলেন ককরোচ নেতৃত্ব
RELATED ARTICLES



