সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের চতুরঙ্গ ময়দানে তিন দিনব্যাপী সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ নিয়ে শেষ হল এক অভিনব স্বাস্থ্য,সংস্কৃতি বিজ্ঞান,আর্ট ও লিটিল ম্যাগাজিন মেলা। উদ্যোক্তা ছিল আরাধনা সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংস্থার প্রাক্তন সম্পাদক খায়রুজ মন্ডল জানান, দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে আরাধনা সোসাইটি সারা বছর ধরেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নবম বর্ষের এই সাংস্কৃতিক স্বাস্থ্য ও লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সোসাইটির আর এক কর্মকর্তা অসীম কুমার সাহা জানান, আরাধনা সোসাইটি প্রতিবছর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে একটি স্বাস্থ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এবছর এই স্বাস্থ্য প্রদর্শনীতে কলকাতা ও দুর্গাপুরের বারোটি বেসরকারি হাসপাতালের নামিদামি চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ বিনা ব্যয়ে রোগী দেখে তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়েছেন ও ওই হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা থাইরয়েড পরীক্ষা সহ নানান ধরনের পরীক্ষা করা হয়। বিখ্যাত অংকলজিস্ট ডাক্তার পারমিতা সরকার বলেন,দুর্গাপুরে মহিলাদের মধ্যে প্রচন্ডভাবে ক্যান্সার রোগ বাড়ছে। তিনি এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এখানে আয়োজিত এক সেমিনারে মহিলাদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেন। সাত্তিক হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডঃ সুপ্রিয় ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন,দুর্গাপুরে বয়স্ক রোগীরা যারা প্রচন্ড অসুস্থতার কারণে ঘরের বাইরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারবেন না সাত্তিক হাসপাতাল সেই সমস্ত রোগীদের বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখে রোগের বিধান দেবেন। তরুণী দন্ত চিকিৎসক ডাক্তার তনয়া বাদ্যকর বলেন, শুধু আরাধনার এই স্বাস্থ্য শিবিরে নয়, প্রয়োজনে তিনি অন্যত্রও বিনামূল্যে গরীব রোগীদের দন্ত চিকিৎসা করতে আগ্রহী। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল লিটিল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী। লিটিল ম্যাগাজিন প্রদর্শনীর অন্যতম সম্পাদক রাজীব ঘাঁটি জানান,এই মেলায় পশ্চিম বর্ধমান, চুঁচুড়া, হুগলি ও ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া থেকে মোট উনিশটি লিটিল ম্যাগাজিন সংস্থা অংশ নিয়েছে। এই ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার দিনেও লোকের মধ্যে পড়াশুনার আগ্রহ বাড়ছে তার প্রমাণ এ লিটল ম্যাগাজিন গ্যালারিতে প্রচুর পাঠকের সমাগম। দুর্গাপুরের অন্যতম ব্যস্ত ডার্মাটোলজিস্ট ডাঃ শর্মিষ্ঠা দাস জানালেন, প্রচুর মানুষ উৎসাহের সঙ্গে এখানে লিটিল ম্যাগাজিন কিনেছে। মেলায় প্রতিদিন দুর্গাপুরে স্থানীয় কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ অনুষ্ঠান ছিল বেশ জমজমাট। প্রতিদিনই নানা ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্বর্ণযুগের বাংলা গান বেশ জমে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাত তবলা বাদক সৌমিত্রজিত চ্যাটার্জির সমবেত তবলা বাদন একটি অত্যন্ত উপভোগ্য অনুষ্ঠান ছিল। শেষ দিনে আরাধনা সোসাইটির সদস্যদের যাত্রাপালা প্রায় লুপ্ত হয়ে যাবার পথে একটি শিল্পকে চতুরঙ্গ ময়দানের আরাধনার সংস্কৃতি মঞ্চে আবার সবার দেখার সৌভাগ্য হলো। ভালো লাগলো দুর্গাপুরের ঊনিশটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্ভাবন মূলক বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও শিল্পীদের আর্ট গ্যালারি। সংস্থার বর্তমান সম্পাদক ইন্দ্রনাথ মুখার্জি জানান সারা বছরই তারা বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য পরিষেবা দিয়ে থাকেন। তার মধ্যে অন্যতম হল এই মেলা।
আরাধনা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অভিনব বার্ষিক মেলা
RELATED ARTICLES



