বাঁকুড়া,১৪ জুনঃ শাসন ক্ষমতা চলে গেলেও দাপট কমেনি বাঁকুড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়ের। বিগত কয়েক বছর ধরে এলাকার রাজগ্রামের ব্যানার্জী পরিবার তাদের নিজস্ব জমিতে পাঁচিল দিতে পারেনি ওই কাউন্সিলারের বাধায়। জমির কাগজপত্র থাকা সত্বেও বারবার চেষ্টা করেও বাড়ির ওই সীমানা পাঁচিল দিতে পারেননি রীতা ব্যানার্জী। অবশেষে রাজ্যে পালাবদলের পর বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজের জমিতে সীমানা পাঁচিল তৈরীর কাজ শুরু করে ব্যানার্জী পরিবার। কিন্তু এবারও তৃণমূল কাউন্সিলার আগের মতোই এই কাজে বাধা দেন। এমনকি, পরিবারের বয়স্ক মহিলা রীতা ব্যানার্জীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কাউন্সিলের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিচার চেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার দ্বারস্থ হয়েছেন রীতাদেবীর পূত্রবধূ বিজয়লক্ষী ব্যানার্জী। জানা গেছে,বাঁকুড়া শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজগ্রাম এলাকায় নিজেদের একচিলতে জমি রয়েছে ওই এলাকারই বাসিন্দা রীতা ব্যানার্জীর। রীতা দেবী বছর দেড়েক আগে ওই জমিতে সীমানা পাঁচিল দিতে গেলে বিরোধ বাধে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। অভিযোগ,ওই জমিতে পাঁচিল দিলে স্থানীয় পাড়ার মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হবে এই অজুহাতে পাঁচিল তৈরীর কাজ আটকে দেন কাউন্সিলার। কাউন্সিলার হুমকি দেন তিনি কাউন্সিলার পদে থাকাকালীন কোনোভাবেই ওই জমিতে পাঁচিল তৈরী করতে দেবেন না। রাজ্যে পালাবদলের পর বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ওই জমিতে সীমানা পাঁচিল তৈরীর কাজ শুরু করেন রীতাদেবী। কিন্তু এবারও একইভাবে দাপট দেখিয়ে কাজে বাধা দেন ওই কাউন্সিলার অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। এই সময় রীতাদেবীর সঙ্গে প্রথমে বচসা বাধে কাউন্সিলারের। অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলার রীতাদেবীকে গায়ে হাত তুলে ধাক্কাধাক্কি করেন। এরপরই বিচারের দাবিতে বাঁকুড়া সদর থানার দ্বারস্থ হয়ে কাউন্সিলার অপর্ণা চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গীতা দেবীর পরিবার। রীতাদেবীর পুত্রবধূ বিজয়লক্ষী ব্যানার্জী জানান,তাদের ওই জমির সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু,ওই কাউন্সিলার রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের কাজে বাধা দিয়ে চলেছে। এবার আমরা তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। যদিও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উড়িয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলারের দাবি রীতাদেবীর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। রাস্তার জায়গা ছেড়ে ওই পাঁচিল দিলে তাঁর কোনো সমস্যা নেই। অন্যদিকে,বিজেপির অভিযোগ,সারা রাজ্যেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কাউন্সিলাররা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে এসেছেন। এখানেও সেই একই ঘটনা। কাউন্সিলারের চাওয়া কাটমানি দিয়ে দিলেই এই সমস্যা হতো না বলেও বিজেপি নেতাদের অভিযোগ।
ক্ষমতা হারিয়েও দাপট বাঁকুড়ার মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলারের
RELATED ARTICLES



