লাউদোহা,২৬ মার্চঃ আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে দক্ষিণবঙ্গে প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার সূচনা হল বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার পান্ডবেশ্বর বিধানসভার লাউদোহা ফুটবল ময়দান থেকে। পূর্ব নির্ধারিত সূচী মেনেই উত্তরবঙ্গ থেকে এদিন দুপুর ১টা নাগাদ স্থানীয় অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। পান্ডবেশ্বর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভার প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক,কুলটির অভিজিৎ ঘটক, রানিগঞ্জের কালোবরণ মন্ডল,জামুড়িয়ার হরেরাম সিং সহ পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। তাদের সঙ্গেই ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ভি শিবদাসন। মঞ্চে ভাষন দেওয়ার শুরু থেকেই একাধিক ইস্যু তুলে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন মমতা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কার্যত ‘পাণ্ডব বনাম কৌরব’-এর লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “এই লড়াই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের— আমরা পাণ্ডব,বিজেপি কৌরব।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়,বরং গণতন্ত্র,অধিকার ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার সংগ্রাম। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন,“লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না, রাজনৈতিক দল বা সংবাদমাধ্যমকেও দেওয়া হচ্ছে না—এটা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।” ঐক্যের বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “একটা আঙুলে মুষ্টি হয় না—পাঁচটা আঙুল একসঙ্গে হলেই শক্তি।” ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে রামনবমী উপলক্ষে কোনও উস্কানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে সহাবস্থানের বার্তাও দেন। এদিনের সভায় রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন,আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট,আসানসোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর—সবই তৃণমূল সরকারের আমলে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি জানান, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসুবিধা,‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর আর্থিক সহায়তা এবং ছাত্রদের জন্য ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প সাধারণ মানুষের পাশে থাকার প্রমাণ। সভায় তিনি জোরের সঙ্গে জানান, “লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চলবে,ভবিষ্যতে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবাও চালু করা হবে,”। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন,রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। গ্যাস ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গ্যাস এখন রান্নাঘরে নয়,প্রচারের গ্যাস বেলুনে যাচ্ছে।” নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “বিজেপির পার্টি অফিস থেকেই প্রশাসনিক বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” ভোট ও গণনার দিনে কোনও অনিয়ম হলে তা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অধিকার রক্ষায় পিছিয়ে পড়া যাবে না।” এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার থাকাকালীন কাউকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে দেউচা-পাচামি প্রকল্পে প্রায় এক লক্ষ চাকরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বক্তব্যের শেষের দিকে আবেগঘন সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যদি যোদ্ধা হই,আপনারা সহযোদ্ধা। অন্যায় ও বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করে পাণ্ডবদের মতোই আবার জিতবে বাংলা।” উল্লেখ্য,পান্ডবেশ্বেরের এই সভার পরই মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
গ্যাস থেকে ভোটার তালিকা,লাউদোহার সভায় ‘কৌরব’ বিজেপিকে তোপ মমতার
RELATED ARTICLES



