সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় পাঁচ বছর পর অভিযুক্ত স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দুর্গাপুর মহকুমা আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ঘটনাটি ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা থানার আড়া এলাকার একটি আবাসনে ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার বিপ্লব পারিদা তাঁর স্ত্রী ইপসা প্রিয়দর্শিনী-র সঙ্গে ওই আবাসনে ভাড়া থাকতেন। বিপ্লবের বাড়ি ওড়িশায় এবং ইপসার বাড়ি কটকে। ২০১৯ সালে দেখাশোনা করে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কর্মসূত্রে কাঁকসাতেই বসবাস করতেন ওই দম্পতি। তদন্তে উঠে আসে, বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলত। ঘটনার দিন রাতেও তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং তা ক্রমশ চরমে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজনার মাথায় পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন বিপ্লব। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই মোটরবাইক চালিয়ে কাঁকসা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং অপরাধের কথা স্বীকার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝে থেকে ইপসার দেহ উদ্ধার করে। পরে মৃতার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। এই খুনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন। এরপর তদন্ত শুরু করে কাঁকসা থানা। দীর্ঘ তদন্ত,সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানির পর অবশেষে মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী শ্রাবণী সরকার জানান,২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মামলা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার শেষে বিচারক অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।
স্ত্রীকে খুনের পাঁচ বছর পর স্বামীর যাবজ্জীবন সাজা দুর্গাপুর আদালতে
RELATED ARTICLES



