আসানসোল,১৭ জুনঃ কয়েক সেকেন্ডের এদিক-ওদিক হলেই হয়তো মাইথন জলাধারের বুকে নেমে আসত এক চরম শোকের ছায়া। কিন্তু বিপদের সেই মুহূর্তে নিজের জীবনের পরোয়া না করেই অসীম সাহসিকতা,উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের জোরে প্রায় ১৪ জন পর্যটকের প্রাণ রক্ষা করেন নৌকাচালক মহম্মদ তাজুদ্দিন। ডুবন্ত নৌকা থেকে পর্যটকদের অলৌকিককভাবে উদ্ধার করে কার্যত ‘নায়কের’ মর্যাদা পেয়েছেন মাইথনের বাবু বোট ঘাটের এই চালক। তাঁর এই অনন্য মানবিকতাকে কুর্নিশ জানাতে বাংলার বিজেপি এবং ঝাড়খণ্ডের জেএমএম দলের তরফে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য,মঙ্গলবার সকালে মাইথন জলাধারের পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের মজুমদার নিবাস থেকে একটি নৌকায় চড়ে ১৪ জন পর্যটক সবুজ দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বর্তমানে জলাধারে জলের স্তর কম থাকায় আচমকাই নৌকার নিচে একটি বড় পাথরের ধাক্কা লাগে। মূহূর্তের মধ্যে নৌকার তলদেশ ফুটো হয়ে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। মাঝ-জলাধারে নিজেদের ডুবতে দেখে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করেন পর্যটকরা। ঠিক সেই সময় ঝাড়খণ্ডের বাবু ঘাটে নিজের নৌকায় ছিলেন মহম্মদ তাজুদ্দিন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনের কোনও নির্দেশ বা সাহায্যের অপেক্ষা না করেই তিনি নিজের নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে ঝড়ো গতিতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, “চরম ঝুঁকি নিয়ে ডুবন্ত নৌকা থেকে একে একে সমস্ত পর্যটককে অক্ষত অবস্থায় নিজের নৌকায় তুলে নেন তিনি। তাঁর এই দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত”। সাহসী নৌকা চালক মহম্মদ তাজুদ্দিনকে সম্মান জানাতে এদিন সকালে প্রথমে মাইথন বাবু বোট ঘাটে আসেন ঝাড়খণ্ডের জেএমএম নেতা তথা ধানবাদ জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ গুলাম কুরেশি। এর পরেই সেখানে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের সালানপুর ব্লকের বিজেপি নেতা ডাক্তার সত্য নারায়ণ রায় সহ অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা। দুই দলের নেতারাই তাজুদ্দিনকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধিত করেন। জেএমএম নেতা গুলাম কুরেশি বলেন, “এই ধরনের সাহসিকতা সত্যিই বিরল। নিজের জীবন বাজি রেখে যিনি এতগুলো প্রাণ বাঁচালেন,তাঁকে অবিলম্বে সরকারি স্তরে বীরত্বের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।” বিজেপি নেতা ডা. সত্যনারায়ণ রায় জানান, “তাজুদ্দিনের তৎপরতা না থাকলে আজ বহু পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসত। তাঁর এই অবদান কোনওদিন ভোলার নয়।”
মাইথনে ডুবন্ত নৌকা থেকে ১৪ পর্যটককে উদ্ধার,জীবন বাজি রেখে ‘নায়ক’ তাজুদ্দিন
RELATED ARTICLES



