আসানসোল,২৫ জুনঃ স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে মাইথন জলাধারে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দশম শ্রেণীর এক পড়ুয়ার। মৃত ছাত্রের নাম প্রিন্স কুমার। সে আসানসোলের ডিএভি পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে প্রিন্স তার সাত সহপাঠীর সঙ্গে আসানসোল থেকে একটি অটো রিজার্ভ করে মাইথনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারা মাইথন ফায়ারিং রেঞ্জ ও আনন্দ দ্বীপের মাঝামাঝি একটি ঘাটে পৌঁছায়। এরপর সব বন্ধুরা মিলে জলাশয়ে স্নান করতে নামে। স্নান করার সময় আচমকাই গভীর জলে তলিয়ে যেতে থাকে প্রিন্স। তার বন্ধুরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চোখের পলকে জলের অতলে তলিয়ে যায় সে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই চরম আতঙ্ক ও ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাকি বন্ধুরা। তারা ঘটনাটি কাউকে না জানিয়ে বা পুলিশ-প্রশাসনকে খবর না দিয়ে চুপচাপ আসানসোলে ফিরে আসে। এমনকি প্রিন্সের স্কুলের ব্যাগটি তারা পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে দেয়। এদিকে বিকেল গড়িয়ে গেলেও প্রিন্স বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্কুলে যোগাযোগ করা হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রিন্স এবং তার বন্ধুরা সেদিন স্কুলেই উপস্থিত হয়নি। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যরা আসানসোল নর্থ থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পেয়েই আসানসোল নর্থ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনার তদন্তে নামে এবং প্রিন্সের সাথে থাকা বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে বন্ধুরা এবং মাইথনে ঘুরতে যাওয়া ও স্নান করতে নেমে প্রিন্সের তলিয়ে যাওয়ার পুরো সত্যটি স্বীকার করে। আসানসোল নর্থ থানার পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পুরো বিষয়টি সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়িকে জানায়। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত বন্ধুদের সাথে নিয়ে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় নৌকা চালকদের সহায়তায় জলাশয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। অবশেষে মাইথন জলাধার থেকে মৃত ছাত্রের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আসানসোল ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও ছাত্রের পরিবার সহ গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বন্ধুদের সঙ্গে মাইথনে স্নান করতে নেমে ডুবে মৃত্যু স্কুল ছাত্রের
RELATED ARTICLES



