বাঁকুড়া,২৮ জুনঃ বাঙালির মিষ্টির ভাণ্ডারে আরও এক গর্বের সংযোজন। অবশেষে জি আই তকমা পেল বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ। এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত জেলার মিষ্টি ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে মিষ্টি রসিক বাঙালী। তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলার নতুন সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। ২০২২ সালে জিওগ্রাফিকাল আইডেন্টিফিকেশন তকমার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। নানা প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে মিলল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ব্যবসায়ীদের আশা, এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়বে বেলিয়াতোড়ের বিখ্যাত মেচার সুনাম। তবে শুধু স্বাদ নয়, মেচা সন্দেশকে ঘিরে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাসও। এর উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে একাধিক মত। এক পক্ষের দাবি, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের আমলেই বেলিয়াতোড়ে এই বিশেষ মিষ্টির সূচনা। অন্য মতে, বর্ষাকালে ধর্মরাজের মেলায় গুড়ের লাড্ডু আর্দ্রতায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক নতুন ধরনের এই মিষ্টির সৃষ্টি করেন। সেই মিষ্টিই পরবর্তীকালে বেলিয়াতোড়ের মেচা নামে বাংলাজুড়ে পরিচিতি লাভ করে। ছোলার ডালের বেসন, ঘি, খোয়া ক্ষীর, চিনি ও ছোট এলাচের কাজু কিচমিচ বিশেষ সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই মিষ্টি। একাধিক ধাপে প্রস্তুত হওয়ায় এর স্বাদ ও গন্ধ অন্য সব মিষ্টির থেকে আলাদা। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রায় এক মাস পর্যন্ত টাটকা এবং সুস্বাদু থাকায় দেশ বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। মিষ্টি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মিলেছে স্বীকৃতি এর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন নতুন সরকার সহ মুখ্যমন্ত্রী কে মেচা ব্যবসায়ী মহল। মেচা শিল্প আরও বিকশিত হবে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। রাজ্যের বিভিন্ন মিষ্টি মেলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারেও বেলিয়াতোড়ের মেচাকে পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তারা। সাবেকি মেচার পাশাপাশি বিভিন্ন নকল ফ্লেবার চকোলেট, আম, কাঁঠাল সহ নানা স্বাদের মেচা ইতিমধ্যেই ভোজন রসিকদের মন জয় করেছে। তবে মেচা তৈরি মোটেই সহজ নয়। সময়সাপেক্ষ ও দক্ষতানির্ভর এই কাজের কারণে নতুন কারিগরের সংখ্যা কমছে। ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস মিলেছে জিআই ট্যাগ এরপর রপ্তানির সুযোগ বাড়লে নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পে আগ্রহী হবে। মেচা মহল সহ বেলিয়াতোড়বাসী ধন্যবাদ জানিয়েছেন সরকার সহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
জি আই তকমা পেল বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী বেলিয়াতোড়ের মেচা সন্দেশ
RELATED ARTICLES



