Friday, July 24, 2026
Google search engine
Homeদক্ষিণবঙ্গঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ড দুই পরিবহন আধিকারিক

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ড দুই পরিবহন আধিকারিক

সংবাদদাতা,কুলটি,২৪ জুলাইঃ বেআইনিভাবে গাড়ি আটকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠতেই চটজলতি কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য পরিবহন দফতর। সাসপেন্ড করা হয়েছে দুই পরিবহন আধিকারিককে। যা সাম্প্রতিককালে এক নজিরবিহীন ঘটনা। জানা গেছে,ঘটনাটি হল পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টের। এখানে বেআইনি ভাবে গাড়ি আটকে ২২ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে  ওই চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিক্যালস্ ইন্সপেক্টর (এমভিআই-এনটি) অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও নাজিমুল হক। তাদের সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করে বিষয়টি তদন্তের জন্য অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি)-র কাছে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই  রাজ্য পরিবহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রবি ইন্দর সিংয়ের সাক্ষরিত পৃথক দুটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাতে  জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত চলাকালীন তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৭১ অনুযায়ী সাসপেনশন কার্যকর থাকবে এবং এই সময় তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স পাবেন। এরপরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন,কোন বেআইনি কাজ রাজ্য সরকার বরদাস্ত করবে না। রামপুর চেক পোস্টে যা হয়েছে,তা একেবারেই বেআইনি। তাই দুজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। উল্লেখ্য,পশ্চিম বর্ধমান ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথ রামপুর চেকপোস্টকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই লরি চালক ও পরিবহণ ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বহু লরি চালকের অভিযোগ,চেকপোস্টে নথি পরীক্ষা ও যানবাহন ছাড়ার নামে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এতদিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশ্যে বড় কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এবার সরকারি নির্দেশে দুই আধিকারিকের সাসপেনশন সেই অভিযোগগুলিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল। পরিবহণ দফতর রামপুর চেকপোস্টে প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়,সেজন্য নতুন মোটর ভেহিকেল ইন্সপেক্টর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।এভাবে একসঙ্গে দুই আধিকারিকের সাসপেনশনের ঘটনায় পরিবহণ দফতরের কর্মীদের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে তেমনই লরি মালিক সংগঠন ও পণ্য পরিবহণকারী লরি চালকদের মধ্যে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে। অনেক চালকই বলছেন, সরকার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই কড়া নজরদারী চললে চালকদের অযথা হয়রানি বন্ধ হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments