বাঁকুড়া,১৪ সেপ্টেম্বরঃ দিল্লি থেকে বাঁকুড়ার জগদল্লা মাঝপাড়ার নিজ বাড়িতে ফিরল ভারতীয় সেনাকর্মী বছর ৪০ এর বেনুলাল পাত্রের নিথর দেহ। সদা শান্ত স্বভাবের বেনুলালকে শেষ দেখা দেখতে সকাল থেকেই রাস্তার দুধারে অপেক্ষায় ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। শোভাযাত্রা করে সেনার গাড়িতে কফিনবন্দি দেহ এল জগদল্লা মাঝপাড়ার বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী পুত্র সহ পরিবারের পরিজন। ৪০ বছর বয়সি বেনুলাল কর্মসূত্রে অরুণাচল প্রদেশে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ব্যক্তিগত কাজে তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন। সেখানেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি। গত শনিবার রাতে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু কি কারনে মৃত্যু তা পরিস্কার নয়। তার দেহ বাঁকুড়ায় পৌঁছতেই জগদল্লা মাঝপাড়ায় গ্রাম জুড়ে নেমে এল শোকের ছায়া। বাড়িতে ঢোকার আগেই রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ। সেনাবাহিনীর তরফে জাতীয় পতাকায় মোড়া বেনুলালের কফিনবন্দি মরদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবার পরিজন বাল্যবন্ধু নিকট আত্মীয় সহ গ্রামবাসী। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা,জেলা বিজেপি সভাপতি সহ নেতা কর্মীরা। বেনুলালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিধায়ক বলেন,এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ভারতমাতার এক বীর সন্তান দেশের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি ১৪০ কোটি মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অসুস্থতার কারণে তার প্রাণ চলে গেল। আজ তার শেষযাত্রার সাক্ষী থাকলেন কয়েক হাজার মানুষ। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানাতে হল। বাল্যবন্ধু রাকেশ চট্টরাজ জানান, বেনুলালের মৃত্যু যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। প্রাথমিক স্কুল থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা,পরে হাই স্কুলেও একসঙ্গে। মাঠেও একসঙ্গে দৌড়ানো, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। ছোটো থেকেই খুব শান্ত স্বভাবের বেনু। কখনো ফোনে কিম্বা ছুটিতে বাড়ি ফিরলে নানা বিষয়ে আলোচনা হত। নিয়মিত যোগাযোগও ছিল। দেশ একজন সেনাকে হারাল। আর আমি হারালাম ছোটবেলার এক ভাল বন্ধুকে।
বাঁকুড়ায় জাতীয় মর্যাদায় চির বিদায় শহীদ জওয়ান বেনুলালকে
RELATED ARTICLES



