সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ সমুদ্র শহর দীঘার পর এবার মুকুটমণিপুর। খাতড়া মহকুমা সদর এবং মুকুটমণিপুরের হোটেল রেস্তোরাঁগুলিতে অভিযান চালিয়ে খাবারের গুণগত মান ও স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে একাধিক অনিয়মের হদিশ পেল জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। কোথাও ফ্রিজে রাখা মাংসের উৎস ও বিলের নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ী,কোথাও মিলেছে ফাঙ্গাস ধরা ভাজা মাছ ও ডিম। কয়েকটি রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছে খাবারে ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ও কৃত্রিম সুগন্ধি। খাবারের ব্যাচ নম্বর,উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখহীন খাবার তৈরির সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে,এই ঘটনায় খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি,খাতড়া বাজার ও মুকুটমণিপুরের প্রায় ১৬ টি মিষ্টির দোকান,হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের একটি দল। খাতড়া ও মুকুটমণিপুরের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁতায় অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলা শাসক চিরন্তন প্রামাণিক,খাতড়ার মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য,মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আখতার আলী সহ জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। রেস্তোরাঁয় ফ্রিজে মজুত রাখা মাংসের পাকা বিল দেখাতে পারেননি রেস্তোরাঁয় মালিক। মাংসটি কবে কেনা হয়েছিল তার উপযুক্ত নথি নেই। একটি খাবারের দোকানে ভাজা মাছ ও ডিমে ফাঙ্গাস ধরার বিষয়টি অভিযানে আধিকারিকদের নজরে আসে। কয়েকটি রেস্তোরাঁয় খাবারে ব্যবহারের জন্য অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং পাওয়া যায়। খাবারে ওই সব রং ব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। খাবার তৈরির সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে,যার গায়ে ব্যাচ নম্বর,উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ নেই। পশু খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত বেসন ব্যাবহার হচ্ছে হোটেলে। অধিকাংশ হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার তৈরির জায়গায় পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। কয়েকটি জায়গায় গৃহস্থের ব্যবহারের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অবিলম্বে ত্রুটিগুলি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে,রান্নাঘর এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও চরম উদাসীনতা রয়েছে। এমন কিছু অনুমোদনহীন ফুড কালার ও সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে,যেগুলি খাবারে ব্যবহার করা যায় না। যেসব দোকান ও রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ধরা পড়েছে,তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার অনিয়ম ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা শাসক। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না। খাবারের ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে। ক্রেতারাও যাতে তারা কী খাবার কিনছেন,তার গুণমান ও উপাদান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পান,তা নিশ্চিত করাই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন, বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক।
হোটেল অভিযানে ধরা পড়ল স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে নানা অনিয়ম
RELATED ARTICLES



