বাঁকুড়া,২৩ সেপ্টেম্বরঃ বাঁকুড়ায় আত্মসমর্পণ করলেন তিন মাওবাদী শীর্ষ নেতা। বুধবার বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি,পশ্চিমাঞ্চল আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন জবা মাহাতো, নয়নতারা সাহু ও রামপ্রসাদ মান্ডি নামের তিন মাওবাদী নেতা নেত্রী। অস্ত্র ও জঙ্গলের জীবনকে ভুল দাবি করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার লক্ষ্যেই তাদের এই আত্মসমর্পণ বলে দাবি করেন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা। জানা গেছে, জবা মাহাতো ও নয়নতারা সাহু মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা ছিলেন। অন্যদিকে রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন বাংলা -ঝাড়খন্ড – ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির কমান্ডার ছিলেন। গত দু দশকে আত্মসমর্পণকারী ওই ৩ মাওবাদী নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে এ রাজ্য সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ৮০ টিরও বেশি মামলা রয়েছে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। তারই প্রক্রিয়া হিসাবে সারা দেশেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। ক্রমশই কোনঠাসা হচ্ছে মাওবাদীরা। এবার সেই প্রক্রিয়াতেই আরো বড় সাফল্য এলো। নিজেদের অস্ত্র সহ বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে আত্মসমর্পণ করলেন। ৩ জনই ২০০৬ সালের আশপাশে মাওবাদী সংগঠনে যুক্ত হন। এদিন ২ টি ইনসাস,১টি এ কে ফোর্টি সেভেন বন্দুক ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০ টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ জমা দেন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা। বন্দুকগুলি এ রাজ্যে বিভিন্ন সময় পুলিশের কাছ থেকে মাওবাদীরা ছিনতাই করেছিল বলে জানা গেছে। মাওবাদী নেতাদের দাবি একসময় জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনার কারনেই তাঁরা অস্ত্র ধরে জঙ্গলের জীবন বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথ ভুল। তাই তাঁরা জঙ্গলের জীবন ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। রাজ্য পুলিশের এডিজি বলেন, আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পান তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।
বাঁকুড়ায় তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতানেত্রীর আত্মসমর্পণ
RELATED ARTICLES



