Saturday, July 20, 2024
Google search engine
Homeদক্ষিণবঙ্গ১০২ বছর ধরে গনাই ঘরে নজরুলের আসন পাতা

১০২ বছর ধরে গনাই ঘরে নজরুলের আসন পাতা

শতবর্ষ ধরে কবির আসন পাতা। কবি নেই সাতচল্লিশটি বছর, কিন্তু, ১০২ বছর আগে তার ক্ষণিকের জন্য বসা সেই কাঠের আসনটি আজও রয়ে গেছে প্রায় বেদীর মর্যাদায়।

কাজী গোলাম গউস সিদ্দিকী,কৃষ্ণনগরঃ শতবর্ষ ধরে কবির আসন পাতা। কবি নেই সাতচল্লিশটি বছর, কিন্তু, ১০২ বছর আগে তার ক্ষণিকের জন্য বসা সেই কাঠের আসনটি আজও রয়ে গেছে প্রায় বেদীর মর্যাদায়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম প্রাণের শহর এই কৃষ্ণনগরের গনাই পরিবারে। ১০২ বছর ধরে কবির স্মৃতি বিজড়িত চেয়ারটি আদরে, গর্বের সাথে আগলে রেখেছেন এই শহরের গনাইরা। সরকারি সংগ্রহশালায় নয়, একটি পরিবারের এই সংরক্ষণ একটি বিরল ঘটনা। বাংলার বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলাম একবারই বসে ছিলেন গনাই পরিবারের  দু দিক উঁচু আলাদারকম এই চেয়ারে। প্রায় বুকদিয়ে আগলে রাখা এই ‘অমূল্য সম্পদ’টি থাকায় তারা গর্বিতও। কবির জন্মদিন বা মৃত্যু দিনে বহু মানুষ আজও গনাই পরিবারে এসে হাজির হন এই ঐতিহাসিক চেয়ারটি দেখতে, বলে জানালেন গনাইদের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য রীতম গনাই। সালটা ছিল ১৯২১।  কবি নজরুল তখনও কলকাতার বাসিন্দা। এবং লেখনি ও ব্যক্তি জীবনে ভারতের পরাধীনতা মুক্তির ব্রতে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। কৃষ্ণনগরে সেই রকমই স্বাধীনিতাকামী মানুষদের এক সভায় হাজির হয়েছিলেন আমন্ত্রণ পেয়ে। তার আগে থেকেই কৃষ্ণনগরের বিল্পবী ভাবধারার কিছু মানুষের সঙ্গে  আলাপ হয়েছিল বিদ্রোহী কবির। তাদেরি একজন ছিলেন  এই পরিবারের তারা গনাই। সভা শেষে কবিকে তারা তার নিজের বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রন জানালেন। কবিও এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। কৃষ্ণনগরের ছুতোর পাড়ায় তারা গনায়ের বাড়িতে নজরুল কিছুক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন। তার বাড়িতে বসেছিলেন এই কাঠের আসনটিতে। সেখানে তিনি বাড়ির লোকদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেন, বলে রীতম জানালেন। চায়ের পর কয়েক খিলি পানও খেয়ছিলেন কবি। প্রসঙ্গত: নজরুল ছিলেন ভীষণ রকমের চা আর পানের ভক্ত। সদালাপি নজরুল অল্প সময়েই বাড়ির সবার মন জয় করে নেন। তার বাড়িতে থাকার সময় কবি তারা গনাইকে একা একটু আড়ালে নিয়ে গিয়ে কিছু বিল্পবী ভাবধারার আলোচনা সেরে নেন, বলে পরিবারের দাবি। কবি তারাদের পথও দেখিয়ে ছিলেন ঠিক কি ভাবে এগুতে হবে লড়াইয়ের দিনগুলিতে। কবির গনাই পরিবারে আগমনের এই ইতিহাস নদীয়ার ‘রেলবাজার মাজদিয়ার আনাচে কানাচে’  বইতে বর্ণিত। লেখককে এই তথ্য জানিয়েছেন, তারা গনাইয়ের পরিবারের অন্যতম সদস্য রমা রায় (বিয়ের পরে তাঁর পদবি হয় রায়)। তিনি লেখককে জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের তারা গনাইয়ের বাড়িতে কবি নজরুল ইসলামের আসা এবং ঐ চেয়ারে বসার কথা জেনেছেন তার জ্যেঠিমা’র কাছ থেকে। এখন এই গনাই পরিবারের সদস্যরা হলেন, আরতি গনাই, আর তারা গনায়ের চতুর্থ প্রজন্ম রীতম গনাই। রীতম জানান, যেহেতু তারা গনাই ছিলেন স্বদেশী, তাই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুরও। পরবর্তীকালে কৃষ্ণনগরে কবি প্রায় তিন বছর সপরিবারে বসবাস করেছেন। ১৯২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেখানেই কবি তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘দুর্গমগিরি কান্তর মরু’, মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস এবং বাংলা ভাষায় প্রথম গজল ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ — সৃষ্টি করেছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments