Monday, June 24, 2024
Google search engine
Homeদক্ষিণবঙ্গপশ্চিম বর্ধমানে নরেনের পরিশ্রম আর কৌশলে কুপোকাত বিরোধীরা

পশ্চিম বর্ধমানে নরেনের পরিশ্রম আর কৌশলে কুপোকাত বিরোধীরা

সার্থক কুমার দে, পান্ডবেশ্বর: আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র ও বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে বিরোধীদের পরাস্ত করে জয়লাভ করেছে তৃণমূল প্রার্থীরা। তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন চক্রবর্তীর পরিশ্রম ও কৌশলে বিরোধীরা কুপোকাত হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল ও বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে বিরোধীদের পরাজিত করে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা। আসানসোল কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুরেন্দ্র সিংহ আলুওয়ালিয়া কে ৪৯ হাজার ৫৬৪ ও বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ কে পরাজিত করে জিতেছেন তৃণমূলের কীর্তি আজাদ। জোড়া প্রার্থীর জয়ের নেপথ্যে রয়েছেন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পরিশ্রম ও রণকৌশল বলে মত বিশ্লেষকদের। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আসানসোল কেন্দ্র থেকে জিতে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। ২০২২ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বাবুল সুপ্রিয় যোগ দেন তৃণমূলে। বাবুলের ইস্তফার কারণে কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচন হয়। ওই উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালকে ৩ লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন তৃণমূলের শত্রুঘ্ন সিনহা। শাসকদল এবার লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেন বিহারীবাবুকে। পদ্মফুল প্রতীকে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ভূমিপুত্র সুরেন্দ্র সিংহ আলুওয়ালিয়া। অপরদিকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রতীকে লড়াইয়ে নামেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। এই কেন্দ্রে বিজেপি লড়াইয়ের ময়দানে নামান দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। দুটি কেন্দ্রেই জমাটি লড়াই হবে বলে মত প্রকাশ করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কিন্তু ৪ মে মঙ্গলবার ফল প্রকাশের পর দেখা যায় দুটি কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীরা।‌ আসানসোল কেন্দ্রে শত্রুঘ্ন সিনহা জয়ী হন ৫৯,৫৬৪ ভোটে। অন্যদিকে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিলীপ ঘোষ কে ১ লক্ষ ৩৭ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদ। দলের দুই প্রার্থীর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বড় ভূমিকা। ভোট ঘোষণার পর প্রচারের প্রথম দিন থেকেই দুই প্রার্থীকে সাথে নিয়ে শেষ দিন পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যান জেলা সভাপতি। দুটি কেন্দ্রেই দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। দক্ষ হাতে সেই দ্বন্দ্ব মিটিয়ে তিনি সকলকে এক সূত্রে বেঁধে সবাইকে প্রচারে যেমন নামিয়েছেন। তেমনি প্রতিপক্ষের প্রচারের জবাবও দিয়েছেন স্বাবলীল ভাবে। কোন কেন্দ্রে কি সমস্যা কি ঘাটতি রয়েছে সেগুলিকে চিহ্নিত করে সমাধানও করেছেন দক্ষতার সাথে। সেই সাথে আসানসোল কেন্দ্রে দলের প্রার্থী কে সবচেয়ে বেশি লিড দিয়েছেন জেলা সভাপতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র পাণ্ডবেশ্বর (৪০,০২৩ ) থেকে। অন্যদিকে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে লড়াইটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল‌ প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিল। এবার শাসকদল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করে কীর্তি আজাদকে। অপরদিকে পদ্মফুল প্রতীকে লড়াইয়ে নামেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গত নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৭০ হাজারের বেশি ভোটের লিড পেয়েছিল বিজেপি । সেই লিড কারণেই সেবার এই কেন্দ্রে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী। তাই এবার প্রথম থেকেই এই দুটি কেন্দ্রে বিজেপির মার্জিন কমাতে প্রথম দিন থেকেই জোর দিন জেলা সভাপতি। প্রার্থীদের সাথে নিয়ে তিনি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরেন। যার ফলস্বরূপ দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে ২০১৯ সালে বিজেপির ৫০ হাজারের বেশি লিড এবার কমে দাঁড়ায় সাড়ে ১১ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে গতবার দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল সাড়ে ছাব্বিশ হাজারের কিছু বেশি । এবার এই কেন্দ্রে বিজেপির সেই মার্জিন মুছে দিয়ে তৃণমূল লিড পেয়েছে প্রায় ১৬ শো ভোটে। বিশ্লেষকদের মতে এই অসাধ্য সাধন হয়েছে জেলা সভাপতির পরিশ্রম আর রণকৌশলে। নির্বাচনে দলের সাফল্যের কান্ডারী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সৈনিক তাদের কাছ থেকেই লড়াইয়ের মন্ত্র শিখেছি। ভোট চাইতে মাথা নত করে ভোটারদের কাছে গিয়েছি, মানুষের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনেছি আন্তরিকভাবে তাতেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি। জয় লাভের পর দুটি কেন্দ্রে উন্নত পরিষেবা দেওয়া এখন পরবর্তী লক্ষ বলে জানান নরেন বাবু। সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার। এই সাফল্যের নেপথ্যে যেমন রয়েছে মেন্টর গৌতম গম্ভীর এর উপস্থিতি। তেমনি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় শাসক দলের সাফল্যের পেছনে অবদান রয়েছে জেলা সভাপতির। আসলে এবার ভোটের খেলাতে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ তিনিই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments