সংবাদদাতা,অন্ডালঃ সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অন্ডালে। এবার এই অভিযোগ সামনে আনলেন অন্ডালের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। তাঁর দাবি,খাদ্য দপ্তর ও আবগারি দপ্তরে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ,২০২২ সালে আসানসোলের সাকতোড়িয়ার বাসিন্দা জয়দেব বাউরি, তন্ময় বাউরি এবং অন্ডালের দক্ষিণখণ্ডের এক বাসিন্দা খাদ্য দপ্তরে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল এবং আবগারি দপ্তরে তাঁর ভাই সুপ্রিয় মণ্ডলকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলেই অভিযোগ। সেই আশ্বাসেই ধাপে ধাপে তাঁদের কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের দাবি,চাকরির প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁকে কলকাতার ধর্মতলায় খাদ্য দপ্তরের একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রশিক্ষণ,ইন্টারভিউ-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ার নামে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এমনকি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রও। একইভাবে তাঁর ভাইকেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। অভিযোগ,প্রশিক্ষণ, ইন্টারভিউ,নিয়োগপত্র থেকে শুরু করে সমস্ত নথিই ছিল সম্পূর্ণ ভুয়ো। অর্থাৎ গোটা চাকরির প্রক্রিয়াটাই ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ। প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের অভিযোগ, টাকা ফেরতের জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করলে অভিযুক্তরা ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে জানা যায়,সেই চেকটিও জাল। তাঁর আরও অভিযোগ,দক্ষিণখণ্ডের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তাঁকে হুমকি দেন। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে বড় প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি চাকরির টোপে ১৮ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার খোদ তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান
RELATED ARTICLES



