Tuesday, August 11, 2026
Google search engine
Homeদক্ষিণবঙ্গগ্রামীণ হাসপাতালে ৫০ জন গর্ভবতী মহিলার একসঙ্গে ‘সাধভক্ষণ’ অনুষ্ঠান

গ্রামীণ হাসপাতালে ৫০ জন গর্ভবতী মহিলার একসঙ্গে ‘সাধভক্ষণ’ অনুষ্ঠান

আসানসোল,১০ আগস্টঃ বাঙালি সংস্কৃতির এক অন্যতম রীতি হল গর্ভবতী মহিলাদের সাধ খাওয়ানো। অর্থাৎ মা হওয়ার আগে তাদের বিশেষ বিশেষ পদ সাজিয়ে খাওয়ানো। মূলত এই অনুষ্ঠান নিজের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেই হয়ে থাকে। কিন্তু,হাসপাতালের উদ্যোগে এমন একটা অনুষ্ঠান হতে পারে তা ভাবতে পারেননি চিকিৎসা করতে আসা গর্ভবতী মহিলারা। বাস্তবে সেটাই দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে। সোমবার এই অনুষ্ঠান ঘিরে হাসপাতালে দেখা গেল উৎসবের মেজাজ। কোনো গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসে নজির গড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা প্রায় ৫০ জন গর্ভবতী মায়ের জন্য আয়োজন করা হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘সাধভক্ষণ’ উৎসব। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক  ডাক্তার মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন,গ্রামীণ হাসপাতালে এ ধরনের সংবেদনশীল ও সচেতনতা মূলক উদ্যোগ তিনি আগে কখনো দেখেননি। উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট সালানপুর ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডাক্তার তন্ময় মণ্ডল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় তাঁরই রূপায়ণে এবং হাসপাতাল কর্মী ও চিকিৎসকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই বিশেষ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়। চিকিৎসা পরিষেবার স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখেই আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। শ্রাবণ মাসের কথা মাথায় রেখে মাছ-মাংসের পরিবর্তে ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরামিষ অথচ পুষ্টিকর আহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মঙ্গলদীপ জ্বেলে,দূর্বা, আলতা,সিঁদুর সাজানো কুলোর ডালা দিয়ে হবু মায়েদের বরণ করা হয়। হবু মা ও অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আপেল ও গোলাপ ফুল। মধ্যাহ্ন ভোজে ডাল,ভাত,তরকারির সঙ্গে পরিবেশন করা হয় পনির,ছানা ও মিষ্টি। মায়েদের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে আসা পরিজনদেরও মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের পূর্বে সকল গর্ভবতী মায়ের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি,দুর্গাপুরের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা এবং শিশুর পুষ্টি বিষয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার মহম্মদ ইউনুস ছাড়াও ছিলেন ডিটিও অভিষেক রায় এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের একাধিক পদস্থ আধিকারিক। হাসপাতালটিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য মানচিত্রে তুলে ধরতে চান নতুন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তন্ময় মণ্ডল সচেষ্ট হয়েছেন। রোগী দেখার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এই হাসপাতালে হবু চিকিৎসকদের (ইন্টার্নদের) পোস্টিং দেওয়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে,যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা পান। বিএমওএইচ-এর এই ভূমিকায় যেমন উদ্দীপিত হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা,তেমনই ব্লকের সাধারণ মানুষের মুখেও এখন পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments