বাঁকুড়া,১২ আগস্টঃ বাঁকুড়ার সিমলাপালে দুই ব্যক্তিকে বিনা প্ররোচনায় মারধর,শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা,আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি ও পরে একজনকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় ওরফে শঙ্কু। মঙ্গলবার রাতে বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে এবং বুধবার ধৃতকে পেশ করা হয় খাতড়া মহকুমা আদালতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানার দ্বারস্থ হয়ে সিমলাপাল ব্লকের খামারডাঙ্গা গ্রামের অর্জুন দাস নামের এক বাসিন্দা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ওই ব্যক্তি দাবি করেন,গত ১১ অগাষ্ট রাত ৮ টা নাগাদ তিনি ও কার্তিক গরাই নামের তাঁর এক বন্ধু সিমলাপাল থানার বিক্রমপুর মোড়ের একটি চায়ের দোকানে অন্যান্য দিনের মতোই আড্ডা দিচ্ছিলেন। আচমকাই সেখানে হাজির হন তারাশঙ্কর রায় নামের ওই তৃণমূল নেতা। অভিযোগ দোকানে ঢুকেই অর্জুন দাস ও কার্তিক গরাই নামের ওই দুজনকে ব্যাপক গালিগালাজ শুরু করেন। কারন জানতে গেলে কার্তিক গরাইকে বেধড়ক মারধোর করেন ওই তৃণমূল নেতা। অর্জুন দাসের কপালে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকেও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ কার্তিক গরাই অর্জুন দাসকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তারাশঙ্কর রায় ফের কার্তিক গরাইয়ের উপর চড়াও হন। নিজের গলায় থাকা উত্তরীয় কার্তিক গরাইয়ের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় চেঁচামেচি শুনে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে তারাশঙ্কর রায় নিজের স্কর্পিও গাড়ি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ,যাওয়ার সময় গাড়ি চাপা দিয়ে অর্জুন দাসকে পিষে মেরে ফেলার জন্য তারাশঙ্কর রায় গাড়ির চালককে নির্দেশ দেন। অভিযোগকারী অর্জুন দাসের দাবি কোনোক্রমে তিনি গাড়ির ধাক্কার হাত থেকে কোনোক্রমে নিজেকে বাঁচাতে সমর্থ হন। মঙ্গলবার রাতে অর্জুন দাসের এই অভিযোগ হাতে পেতেই তদন্ত শুরু করে সিমলাপাল থানার পুলিশ। রাতেই গ্রেফতার করা অভিযুক্ত তারাশঙ্কর রায়কে। আটক করা হয় তাঁর স্কর্পিও গাড়িটিকেও। এর আগে ১৪ জুলাই তোলাবাজির অভিযোগে তারাশঙ্কর রায়ের ছেলে অনিন্দ্য রায় কে গ্রেফতার করেছিল তালডাংরা থানার পুলিশ।
প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার বাঁকুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি
RELATED ARTICLES



