সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ শিল্পী হয়ে কেউ জন্মায় না,এটা যেমন সত্যি ঠিক তেমনই সাধনা,অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিল্পীসত্তার প্রকাশ ঘটে। জন্মগতভাবে কারো মধ্যে হয়তো কিছুটা সংবেদনশীলতা বা ঝোঁক থাকতে পারে,কিন্তু নিয়মিত চর্চা ছাড়া কোনো শিল্পই পূর্ণতা পায় না। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও ভুল থেকে শেখার অভিজ্ঞতা। চারপাশের পরিবেশ,সঠিক প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ পেলে অনেকেই তার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেন এবং একজন শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন। যার প্রকৃষ্ট উদাহরন হলেন ইস্পাত কর্মী গোপাল চ্যাটার্জী। পেশায় তিনি দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সেন্ট্রাল ইঞ্জিনিয়ারিং মেইনটেনেন্স (সিইএম) বিভাগে একজন স্থায়ী কর্মী হিসেবে কর্মরত। চাকরীর পাশাপাশি যেটুকু অবসর সময় পান সেই সময়কে কাজে লাগিয়েই তিনি মেতে থাকেন শিল্প সৃষ্টির নেশায়। গোপালবাবু ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ইস্পাত কারখানার কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর কাজের অবসরে দীর্ঘ ৩ মাসের প্রচেষ্টায় যন্ত্রের দেবতা শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা ঠাকুরের একটি মূর্তি তৈরি করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সহকর্মীদের। সেই সময় থেকেই কাজের অবসরে তিনি বিভিন্ন ধরনের মূর্তি,পুতুল ইত্যাদি তৈরীর কাজ করতে থাকেন। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সিইএম বিভাগে প্রতি বছর নিরাপত্তা বিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক মাটির পুতুল তৈরি করেন তিনি। গোপালবাবুর সেই সব শিল্প সৃষ্টি কারখানার পদস্থ আধিকারিক ও তার সহকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি পুরস্কৃত হন। এবার তিনি তৈরী করেছেন অপরুপ একটি দূর্গা মূর্তি। জানা গেছে,গত অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মা দূর্গার মূর্তিটি তৈরীর শুভ সূচনা করেন। চাকরী জীবনের অবসর সময়ের ফাঁকে ফাঁকে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করে চিন্ময়ী মা দূর্গা মূর্তিটিকে মৃন্ময়ী রূপ দান করেছেন। সহকর্মীরা এই দূর্গা মূর্তির ভূয়ষী প্রশংসা করেছেন। উল্লেখ্য,আগামী মাসের ফেব্রুয়ারী মাসেই গোপালবাবু তাঁর চাকরী জীবন থেকে অবসর নিতে চলেছেন। তিনি চান,অবসর নিলেও তাঁর শিল্প সৃষ্টির নির্দশন যেন তাঁর কর্মস্থলে স্মৃতি হিসেবে থেকে যায়। গোপালবাবুর সেই ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে সহকর্মীদের উদ্যোগে তাঁর শিল্প সৃষ্টি তাঁর কর্মস্থলে যত্ন সহকারেই সংরক্ষিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।





