সংবাদদাতা,আসানসোলঃ আসানসোল শহরের হীরাপুরের ধেনুয়া গ্রামে দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত কালীকৃষ্ণ আশ্রমে এক বিশেষ রীতিতে অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপুজো। ‘আগমনী দুর্গাপুজো’ নামে পরিচিত এই পুজোর বিশেষত্ব হল,মহালয়ার দিনেই সপ্তমী,অষ্টমী ও নবমীর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এমনকি ওই দিনেই হয় প্রতিমা বিসর্জন। ফলে অন্যান্য জায়গায় যখন দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়,তখনই এই আশ্রমে পুজোর সমাপ্তি ঘটে। এই পুজোর আরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল,এখানে মা দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী,সরস্বতী,কার্তিক ও গণেশের পরিবর্তে দেখা যায় দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়াকে। এই ব্যতিক্রমী রীতি দেখতে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্তের সমাগম হয় কালীকৃষ্ণ আশ্রমে। সারাদিন ধরে সনাতন রীতি মেনে চলে পুজো-অর্চনা। জানা যায়,১৯৩৭ সালে তেজানন্দ ব্রহ্মচারী নামে এক সাধক হীরাপুরের দামোদর নদের তীরে কালীকৃষ্ণ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭৯ সালে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই ‘আগমনী দুর্গাপুজো’ শুরু করেন। তারপর থেকেই একই রীতি মেনে চলে আসছে এই পুজো। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে মহালয়ার দিনেই এখানে দেবী দূর্গার আরাধনা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের একদিনের দুর্গাপুজো বিরল। এলাকাবাসীর মতে,অসমের কয়েকটি জায়গাতেও ‘আগমনী দুর্গাপুজো’ অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্য,বিশ্বাস ও ব্যতিক্রমী পুজোর রীতির টানে প্রতি বছর মহালয়ার দিন কালীকৃষ্ণ আশ্রমে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। একদিনেই পুজো থেকে বিসর্জন—এই অনন্য পরম্পরাই হীরাপুরের কালীকৃষ্ণ আশ্রমের দুর্গাপুজোকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।




